অগণিত রক্তপাত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষের কথা সবারই জানা। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেন, যার সুফল দেশ আজও ভোগ করছে।

তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখন তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের কঠিন সময় অতিক্রম করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ব্যাপক ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং বহু নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। সেই আত্মত্যাগের ফলেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড চালু করা হয়েছে এবং দিনাজপুরে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তারেক রহমানের দেওয়া রিনিউএবল এনার্জির প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে। বাংলাদেশেও রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনে কর কমিয়ে জনগণকে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে মানুষ নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমে।

স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রীদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে ১১ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এ ধরনের মৃত্যু আর না ঘটে।

সূত্রঃ আমার দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *