মুরাদনগরে ধর্ষণ ভিডিও ছড়ানোর পেছনে দুই ভাইয়ের পারিবারিক দ্বন্দ্ব

মুরাদনগরে নারী নিগ্রহ: ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে সাজানো হয় ভিডিও কেলেঙ্কারি

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে নিগ্রহ ও সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে দুই ভাইয়ের পারিবারিক দ্বন্দ্ব। র‍্যাব জানিয়েছে, ছোট ভাই শাহ পরান, বড় ভাই ফজর আলীর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাটি সাজান।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এই তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাহেরচর গ্রামের শহিদের দুই ছেলে—ফজর আলী ও শাহ পরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে একটি গ্রাম্য শালিসে বড় ভাই ফজর আলী জনসম্মুখে ছোট ভাই শাহ পরানকে চড় মারেন। এতে অপমানিত হয়ে শাহ পরান তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করতে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শাহ পরান স্থানীয় আরও কয়েকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগী নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন রাতে ভুক্তভোগীর ঘরে সুদের টাকা চাইতে গিয়ে প্রবেশ করেন ফজর আলী। কিছুক্ষণ পরই শাহ পরান, আবুল কালাম, আরিফ, অনিক, সুমন, রমজানসহ আরও কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে ঘরে ঢুকে নারীর ওপর নির্যাতন চালান এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান স্বীকার করেছেন, ভাইয়ের মানসম্মান নষ্ট করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছিলেন। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান, তবে র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করে।

র‌্যাব আরও জানায়, ইমো অ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে শাহ পরান মব গঠন করেন এবং ঘটনার সহযোগীদের একত্রিত করেন। তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাতে মুরাদনগরের বাহেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ২৯ জুন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সূত্রঃ একুশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *