বাংলাদেশের একটি ফুলও হিন্দুস্তানকে আতঙ্কিত করে: রাশেদ প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, হিন্দুস্তানের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি ভারতীয় দূতাবাসে গিয়েছিলেন। অতীতে একাধিকবার মিছিলসহ কর্মসূচি নিয়ে গেলে পুলিশ বাধা দেওয়ায় এবার তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে একাই সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি জানান, ভারতীয় দূতাবাসে দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে ছিল রাজনৈতিক ভাষায় কর্তৃত্ববিরোধী প্রতীক হিসেবে একটি কালো গোলাপ। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে ঘৃণা প্রকাশ ও প্রতীকী ফুল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। এ প্রসঙ্গে রাশেদ প্রধান বলেন, “হিন্দুস্তান বাংলাদেশের একটি ফুলকেও ভয় পায়।”

রাশেদ প্রধান আরও বলেন, আগের দিন রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ভারতীয় পুলিশ হামলা প্রতিরোধ না করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। অথচ নিজের দেশে, সুশীল অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভারতীয় দূতাবাসে একজন নিরস্ত্র নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে দেয়নি।

তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। হিন্দুস্তানের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হাসিনা ও হাদীর হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দিতে হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যা, অবৈধ পুশ-ইন ও ভূমি দখল বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ওসমান হাদীকে গুলি করার স্থান পল্টন বক্স কালভার্ট রোড থেকে গুলশানের ভারতীয় দূতাবাসের উদ্দেশে একা পায়ে হেঁটে রওনা হন রাশেদ প্রধান। পথে অসংখ্য দেশপ্রেমিক মানুষ তাঁর প্রতি সংহতি জানিয়ে সঙ্গে যোগ দেন। ছয় কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করার পর বাড্ডা লিংক রোডে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়।

সূত্রঃ আমার দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *