শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চল। ভূমিকম্পের প্রভাবে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত তিনটি ভবন ও একটি দুইতলা দোকান ধসে পড়ে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি।
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বালিকেসির প্রদেশের সিনদিরগি শহর। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে এটি আঘাত হানে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল)।
ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী ইস্তাম্বুলসহ আশপাশের বুরসা, মানিসা ও ইজমির প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর আরও বেশ কয়েকটি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, যেসব ভবন ধসে পড়েছে, সেগুলো আগের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং খালি অবস্থায় ছিল। বালিকেসির প্রদেশের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগলু বলেন, সরাসরি ভবনধসে কেউ আহত না হলেও, আতঙ্কে পালানোর সময় ২২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসক দোগুকান কোয়ুনচুর বরাতে আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানায়, এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
এর আগে গত আগস্টে একই অঞ্চলে অনুরূপ মাত্রার এক ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যু ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকে বালিকেসির এলাকায় ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তুরস্কের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছিল। সেই দুর্যোগে প্রতিবেশী সিরিয়াতেও প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্রঃ কালবেলা
