মির্জা আব্বাস গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। পরে বিকেলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
মির্জা আব্বাস এর আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং তৎকালীন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি খালেদা জিয়া–র দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলটির প্রথম দিককার নেতাদের একজন। দল প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান–এর নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
১৯৮০–এর দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ–এর শাসনামলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মির্জা আব্বাস। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯ মে ১৯৯১ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নিযুক্ত হয়ে ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। ১৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি ভূমিমন্ত্রীর পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে সাবের হোসেন চৌধুরী–র কাছে পরাজিত হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হয়ে ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালেই ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধিত আইন পাস হয়।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলার কারণে এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি অংশ নিতে পারেননি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি।
সূত্রঃ কালবেলা
