নেতাকর্মীদের সীমাহীন উচ্ছ্বাসে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবনের ইতি টেনে মায়ের সান্নিধ্যে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মা, মাটি ও মানুষের দল হিসেবে পরিচিত বিএনপির এই শীর্ষ নেতার দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সারাদেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সীমাহীন আনন্দ ও উদ্দীপনা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে তিনি খালি পায়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। পরে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার না করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে উঠে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। বাসে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

যাত্রাপথজুড়ে বাসের সামনের অংশ থেকে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্লোগান ও করতালিতে প্রকম্পিত হয় আশপাশের পরিবেশ।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতার ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সর্বস্তরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য।

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট নং বিজি-২০২) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেখানে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যরা ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরগামী উভয় পাশে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিমানবন্দর সড়ক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি গুলশান-২ এ নিজ বাসভবনে ফিরে যাবেন। আজকের দিনে অন্য কোনো কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা নেই।

সংবর্ধনায় অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষদের ভাষ্য, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যে বিপুল জনসমাগম ও আবেগ দেখা গেছে, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের মতে, এই উৎসাহ ও ঐক্য আগামী নির্বাচনে দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সূত্রঃ একুশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *