পদ্মা রেলওয়ে সেতুর নিচে মাটি অপসারণ পরিকল্পিত কাজ, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি অপসারণ প্রকল্পের নির্ধারিত কাজের অংশ এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের পর জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, মাটি অপসারণের ঘটনা সত্য হলেও এটি কোনো অনিয়ম বা অপরিকল্পিত কার্যক্রম নয়; বরং প্রকল্পের চুক্তি ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণকালে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট অপসারণ করে এলাকাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি চুক্তির বাধ্যবাধকতার মধ্যেই রয়েছে।
রবিউল আলম জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমির ভারসাম্য বজায় রাখতেই এ কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর প্রাকৃতিক ভূমির স্তরে পৌঁছানো যাবে। ওই স্তরের আরও সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে ছয় ফুট পুরু পাইল ক্যাপ এবং এরও প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্টের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের কারণে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধান এবং অনুমোদিত প্রকৌশল নকশা অনুসরণ করেই কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জমিও দেশের স্বার্থে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, রেলওয়ের জমি রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যতটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, ততটুকুই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলওয়ে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি অপসারণের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্যক্রম প্রকল্পের পূর্বনির্ধারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনারই অংশ।
সূত্রঃ কালবেলা
