উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত আতাউল্লাহ শাহ এনসিপির গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা এক চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে মঙ্গলবার গভীর রাতে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় আতাউল্লাহ শাহ পুলিশের রিমান্ডে ছিলেন।
দলীয় চিঠিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী তাকে গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদ, দলের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডও চান তিনি। শুনানি শেষে আদালত আতাউল্লাহসহ ছয়জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আটক অন্য পাঁচজন হলেন শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, যাত্রাবাড়ী এলাকায় টহল ও অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়, মিনি কক্সবাজার এলাকার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের বালুর মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছয়জনকে আটক করা হয়।
এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আতাউল্লাহ শাহসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বাকি দুইজনকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
সূত্রঃ বার্তা বাজার
