বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের যাত্রা, চার খলিফার নামে চার কোম্পানি
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদা মোকাবিলা এবং প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত এই ব্যাটালিয়নের অধীনে চারটি নতুন কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে ইসলামের প্রথম চার খলিফার নামে— আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী কোম্পানি।
গত ১৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নতুন ব্যাটালিয়নের উদ্বোধন করেন। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ বীরশ্রেষ্ঠের নামে পরিচালিত হয়। নতুন ব্যাটালিয়নে চার খলিফার নাম যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে একাডেমির ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। ভবিষ্যতে নারী ক্যাডেটদের জন্য পৃথক কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে নামকরণকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আবার অন্য বিশ্লেষণে বিষয়টিকে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো ও ইউনিটের নাম নির্ধারণের অধিকার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন নেই।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতীয় ঐতিহ্য কিংবা ধর্মীয় প্রতীকের ভিত্তিতে ইউনিটের নামকরণ বা রণধ্বনি ব্যবহারের নজির রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও বিভিন্ন কোর, ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টের নাম এবং রণধ্বনিতে হিন্দু পুরাণ, দেব-দেবী কিংবা ঐতিহাসিক প্রতীকের ব্যবহার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ।
একইভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বীর এবং দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান বিভিন্ন ইউনিটের পরিচয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশের সামরিক ঐতিহ্যে নিজ নিজ ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন কোম্পানিগুলোর নামকরণকে দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, সামরিক প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে এবং এ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা হওয়াও স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠা এবং চার খলিফার নামে কোম্পানির নামকরণ বাংলাদেশে যেমন আগ্রহের সৃষ্টি করেছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশেও এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ সামনে এসেছে।
সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব
