মির্জা ফখরুলের প্রশ্ন —’তোমাদের মার্কায় তো আমরা বাধা দিইনি, তাহলে ধানের শীষ নিয়ে এত টানাটানি কেন বিএনপির?’

ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন—প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ‘অযথা বিতর্ক’ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা তো কারও প্রতীক নিয়ে আপত্তি করিনি, তাহলে ধানের শীষ নিয়ে এত টানাহেঁচড়া কেন?

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি সংসদ।

কারও নাম উল্লেখ না করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাই, তোমাদের মার্কা তোমাদেরই থাকবে, সেটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। আমরা তো কোনো বাধা দিইনি। তাহলে ধানের শীষকে আটকানোর এই প্রচেষ্টা কেন? ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য—একবার যেটা উঠলে, তাকে আর থামানো যায় না।

শাপলা প্রতীক ঘিরে বিতর্ক

প্রসঙ্গত, ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নির্বাচন কমিশন এই প্রতীক বরাদ্দে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার কমিশনে বৈঠকের পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের শর্ত, না হয় শাপলা দিতে হবে, না হয় ধান ও সোনালি আঁশ বাদ দিতে হবে।” তিনি জানান, “শাপলা ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রতীকের বিরুদ্ধে অপ্রত্যক্ষ চাপ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা বিএনপি নেতাদের।

ধান লাগাও স্লোগানই মূল সমস্যা: ফখরুল

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রামেগঞ্জে যান, শুনবেন—‘ধান লাগাও, ধান লাগাও’। এটাই তো সমস্যা। এই জনপ্রিয়তাই বিরক্তির কারণ। ধানের শীষ জিতে গেলে যারা বাংলাদেশের শত্রু, তারা সব ষড়যন্ত্রে পরাজিত হবে। তাই এটিকে রুখে দিতে মরিয়া তারা।

দানব শেখ হাসিনা দিল্লি পলায়ন করেছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মনস্টার শেখ হাসিনা এমনি এমনি দিল্লি পালাননি। তাকে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলন, সংগ্রাম, রক্তদানের মাধ্যমে আমরা সেই ভিত্তি গড়ে তুলেছি।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল দুই দিন লাফালাফি করে আসে না। এর জন্য দরকার সংগঠিত লড়াই, জনগণের কাছে যাওয়া, ত্যাগ স্বীকার। আর বিএনপি সেটা করে—এটাই জনগণের দল।

আমলাতন্ত্র দলীয়করণের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না

আমলাতন্ত্র একটি নির্দিষ্ট দলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, প্রশাসনকে একটি দলের পকেটে ঢোকানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে সরকার। এটা বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে নিরপেক্ষ—কোনো দলের কাছে নত হওয়া চলবে না।

শহীদ জেহাদের স্মরণে শপথের কথা স্মরণ

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান শহীদ জেহাদের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, সেদিন আমরা তাঁর লাশ রেখে শপথ করেছিলাম স্বৈরাচার পতনের। পরদিন হরতালে পুলিশ লাঠিপেটা করলেও আমরা পিছু হটিনি। শেষ পর্যন্ত সেই স্বৈরাচার পতন নিশ্চিত করেছিলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নেতা আসাদুজ্জামান রিপনসহ অনেকে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *