ট্রাইব্যুনালে শহীদ তায়িমের বাবা ময়নাল হোসেনের সাক্ষ্যপুলিশের গুলিতে ‘মা, মা’ বলতে বলতে মাটিতে ঢলে পড়ে তায়িম

জুলাই বিপ্লবের সময় যাত্রাবাড়িতে শহীদ ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ময়নাল হোসেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ময়নাল হোসেন জানান, তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম ভূইয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। তার জানা মতে, ২০২৪ সালের ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তায়িম যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় আন্দোলনে যুক্ত ছিল।

২০ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তায়িম তার বন্ধু শাহরিয়ারের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়। পরে সে বন্ধুদের সঙ্গে কাজলা এলাকায় অবস্থান নেয়। দুপুর প্রায় ১টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে থাকা অবস্থায় ময়নাল হোসেন তার শ্যালিকা শাহিদা আক্তারের কাছ থেকে ফোন পান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় তায়িম গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান ময়নাল। সেখানে গিয়ে প্রথমে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে এক সাংবাদিকের সহায়তায় মোবাইলে দেখানো কিছু মরদেহের ছবির মধ্যে তিনি নিজের ছেলেকে শনাক্ত করেন। পরে মর্গে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর নতুন ভবনের ইমার্জেন্সি মর্গে তায়িমের মরদেহ খুঁজে পান। তিনি জানান, ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল।

পরবর্তীতে মরদেহ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শাহদাত সুরতহাল রিপোর্টে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করে শুধু ‘ছিদ্র’ ও ‘কালো দাগ’-এর কথা লিখেন এবং জানান, এটি ঊর্ধ্বতন নির্দেশ। বাধ্য হয়ে তিনি সেই রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন।

পরদিন দেরিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং বিকেলে মরদেহ বুঝে পান পরিবার। পরে রাজারবাগে জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়। গোসলের সময়ও শরীরে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

ময়নাল হোসেন আরও বলেন, পরে তায়িমের বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ঘটনার দিন পুলিশ তাদের ধাওয়া করে একটি চায়ের দোকানে ঢুকতে বাধ্য করে। সেখান থেকে বের করে মারধর করার পর দৌড়াতে বলা হয়। দৌড়ানোর সময় পুলিশ গুলি চালালে তায়িম মাটিতে পড়ে যায়। পরে কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তায়িম দীর্ঘসময় মাটিতে পড়ে ছিল এবং সাহায্যের চেষ্টা করলেও পুলিশ বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সূত্রঃ আমার দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *