হাসিনা পরিবারের সম্পত্তি জব্দের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জয়ের
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে শেখ হাসিনার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি জব্দের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বুধবার (৩০ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পোস্টে জয় লেখেন, “বাংলাদেশের আদালত আমার পরিবারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের আদলে পৈতৃক সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘সুধা সদন’, যেটি আমার বাবা বহু বছর আগে তৈরি করেছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকার বাইরেও আমাদের বহু পুরনো পারিবারিক সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো কোনো বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই জব্দ করা হচ্ছে। এতে প্রমাণ হয় দেশে এখন আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভবিষ্যতে যে কোনো সরকার এভাবে যে কারও পৈতৃক সম্পত্তিও কেড়ে নিতে পারে।”
জব্দ করা সম্পত্তির বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা যায়, জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গুলশানের বারিধারার চার কোটি ৯৮ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি। এছাড়া খুলনার দিঘলিয়ায় শেখ রেহানা, পুতুল ও জয়-এর নামে থাকা প্রায় ৬২ লাখ টাকার জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই স্থানে রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে থাকা আরও ৪১ লাখ টাকার জমিও জব্দ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রেহানার নামে থাকা ২০ লাখ টাকার জমির বিরুদ্ধেও একই ধরনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ বাড়ি এবং গুলশানে পুতুলের নামে থাকা ৫৭ লাখ টাকার ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জব্দ করা এসব সম্পত্তির মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ
সম্পত্তির পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২৪টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জয়, পুতুল এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোর বিপরীতে এ আদেশ জারি করেন আদালত। শুধু সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি হিসাবেই রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
