গুম নিয়ে সালাহউদ্দিনের স্বীকারোক্তি: একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, যেন কবর

জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গুম ডকুমেন্টারির শুটিং অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সিলেটে এসে “কবরের মতো নিঃসঙ্গ একটি কক্ষে বন্দীদশায় রাখার” অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। শনিবার সকাল ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান তিনি। এরপর সড়কপথে তামাবিল সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত যান—একই পথ যা দিয়ে ১০ বছর আগে গুম করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, সরকারের উদ্যোগে একটি গুম ও হত্যাকাণ্ড ভিত্তিক ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর জন্য শুটিং-এর অংশ হিসেবে সরেজমিনে সিলেটে আসেন সালাহউদ্দিন। যে রাস্তায় তাঁকে গুম করে ভারতে পাঠানো হয়েছিল, সেই স্মৃতি তুলে ধরে ডকুমেন্টারিতে বিবরণ দেন তিনি। কাইয়ূম বলেন, এটি তাঁর নিজেচ্ছায় নেওয়া ব্যক্তিগত কার্যক্রম।

সপরিবারে গুমকে কেন্দ্র করে সালাহউদ্দিনের কর্মজীবন ও প্রেক্ষাপট মিলিয়ে নিচে সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:


🕰️ ঘটনাপরিক্রমা ও দাবি

  • ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট-তামাবিল এলাকায় তিনি নিখোঁজ হন।
  • নিখোঁজের ৬৩ দিন পর, ২০১৫ সালের ১০ মে ভারতে শিলং-এ তাঁকে পাওয়া যায়।
  • ভারতে অবস্থানকালে আইনগত জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে প্রায় ৯ বছর অবস্থান করেন।
  • দেশে ফিরতে পারা সম্ভব হয় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট; ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
  • গুম হওয়ার পর, সালাহউদ্দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও অন্য দায়িত্বশীলদের নাম উল্লেখ করা হয়।

📽️ গুম অভিজ্ঞতার বর্ণনা

সালাহউদ্দিন বলেন, গুম হওয়ার পরে তাকে এমন একটি ঘরে রাখা হয়েছিল, যা ছিল কবরের মতো এক নিঃশব্দ ও বিচ্ছিন্ন কোণ।

  • ঘরে উপরের দিকে হাই-পাওয়ার লাইট ছিল,
  • লোহার দরজার নিচ দিয়ে খাবার সরাসরি দেওয়া হত,
  • সেখানে কোনো টয়লেট ব্যবস্থাও ছিলো না।
    দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঝে মাঝে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
    নির্বাহী কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব ঘটনা সংঘটিত হয় বলে দাবি করেন।
    অদর্শনে র‍্যাব-এর এক সিনিয়র কর্মকর্তা তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাকে গোপনে সাহায্য প্রদান করেন।
    অবশেষে গভীর রাতে তার গুম অভিযান চালিয়ে তাকে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের শিলংয়ে নেওয়া হয়, তিনি জানান।

সূত্রঃ আমার দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *