আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ায় বিএনপি নেতা ফয়জুল করিমকে আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কার
বিএনপি ছাড়িয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সদস্যসচিব মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফয়জুল করিম মুবিন ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ফজলুর করিমের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কারণে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফয়জুল করিম সম্প্রতি ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমে দলবিরোধী বক্তব্য প্রচার করেছেন, যা সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তাই তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সাবেক সহসভাপতি মো. শফিউজ্জামান শফি, শেখ মাসুদ ইকবাল এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা প্রমুখ।
এর আগে গত বুধবার (২২ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে ফয়জুল করিম মুবিন আওয়ামী লীগের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। দুই মিনিটের ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেহেতু বলেছেন, তিনি দেশে ফিরবেন—অবশ্যই ফিরবেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসবেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম বলেন, মুবিন ফেসবুক লাইভে বিএনপি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। আজকের সিদ্ধান্তে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে ফয়জুল করিমের আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতি ঘিরে তার অবস্থান নিয়ে কিশোরগঞ্জ বিএনপিতেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রঃ একুশে
