প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনো ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ থাকলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর তা সম্ভব না হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব নেবেন।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান, বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রার্থী নির্বাচন, জোট গঠন, ইশতেহার, ‘জুলাই সনদ’সহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়ার প্রচারে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হয়—বেগম খালেদা জিয়া কি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন? জবাবে ফখরুল বলেন, এটি পুরোপুরি তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তিনি আমাদের চেয়ারপারসন এবং একজন কিংবদন্তি নেতা। যদি তিনি প্রচারে অংশ নিতে পারেন, তা বিএনপির জন্য বিশাল একটি ইতিবাচক দিক হবে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে
তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। যদিও বড় ধরনের ঝুঁকি আমরা দেখছি না, তবে তার জন্য আবাসন, অফিস ও যাতায়াতের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
জামায়াতের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক
এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাজনীতিতে স্থায়ী জোট বা বন্ধুত্ব বলে কিছু নেই। সময় ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে আগের সেই দৃশ্যমান সম্পর্ক নেই, তবে সম্পর্ক খারাপও নয়। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আরেক রাজনৈতিক দলের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, জামায়াতের সঙ্গেও আমাদের সেই সম্পর্কই রয়েছে।
গণভোট, জোট ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান
সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল গণভোট নিয়ে বিভিন্ন দলের দাবির বিপরীতে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোট নয়, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ইতোমধ্যে দলীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী, জোট গঠন, নীতিগত কৌশল ও ইশতেহার তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। দেশের বর্তমান সংকট মোকাবেলায় ‘জুলাই সনদ’ বিএনপির একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সূত্রঃ একুশে
