চট্টগ্রামের ইপিজেডে ভয়াবহ আগুন, ১৮ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর নিজে নিভে গেলো
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি পোশাক ও মেডিকেল যন্ত্রাংশ উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে পুরো ভবনটি ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পৌঁছায়। প্রায় ১৮ ঘণ্টা জ্বলল এরপর শুক্রবার সকালে আগুন নিজে থেকেই নিভে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনীর বিশেষ টিম সর্বস্বান্ত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
এই আগুন শুরু হয় বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম ইপিজেড-র ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের টাওয়েল ও মেডিকেল সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানার অষ্টম তলায় অবস্থিত গুদাম থেকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনজুড়ে।
আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অষ্টম তলার ছাদ ধসে পড়ে যায় এবং পাঁচ তলা ও তার ওপরে বেশ কয়েকটি ফ্লোরের দেয়াল ফাটে যায়। আগুন নেভার পর ভবনটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের (অপারেশনস) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, ভবনের মধ্যকার মেডিকেল গাউন, এপ্রোন, ক্যাপসহ বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক দ্রব্য আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছে। আগুন নীল রঙ ধারণ করায় দ্রুত প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তবে বড় অর্জন হচ্ছে—আমরা আগুনকে ভবনের বাইরে বিস্তৃত হতে বাধা দিতে পেরেছি।
তবে এই ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। উপস্থিত জনতা অভিযোগ করেছেন, আধুনিক সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও এতো দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলতে দিতে দেওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, কেমিকেল বা ফোম ব্যবহার করার কথাও ওঠে, কিন্তু মিশ্র দাহ্য পদার্থ থাকলে তা আগুনকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হেলিকপ্টার ব্যবহারেও ঝুঁকি ছিল—বাতাসের চাপ আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বলছেন, ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সবসময় নিয়ম মেনে হয়। কিন্তু কি কোনো গাফিলতি হয়েছে, সেটি তদন্তের বিষয়।
বিজিএমইএ’র পরিচালক এম.ডি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইপিজেডের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবু বিদেশি ক্রেতারা সংশয় পোষণ করতে পারেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান মন্তব্য করেছেন, ১৮ ঘণ্টা ধরে এক ভবন জ্বলে ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রের প্রতিরোধ ও সুরক্ষার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। সরকার যাতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়, তা জরুরি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সিভিল ডিফেন্স সংস্থা থেকে সহায়তা নিতে হবে।
ঘটনা তদন্তের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও বেপজার (বন্দর এলাকাজুড়ে শিল্প কর্পোরেশন) উভয়ই দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। বেপজার পাঁচ সদস্যের কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে এবং ফায়ার সার্ভিসের কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য কাজ করবে।
সূত্রঃ আমার দেশ
