যুবদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনকে হত্যার ঘটনায় ডিএমপি‑এর লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, জোবায়েদ তখনো মৃত্যুবরণ করেননি। বাঁচার চেষ্টা করে তিনি দুই তলা থেকে উপরে ওঠেন। তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই শিক্ষার্থী বর্ষা। জোবায়েদি তাকে বলেছিলেন, ‘আমাকে বাঁচাও’। তবে বর্ষার কথায় ছিল, ‘তুমি না মরলে আমি মাহীরের হতে পারব না’। এরপর বর্ষা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জোবায়েদ দরজায় নক করেও সাহায্য পাননি— তিনি মঙ্গলবার পুলিশ মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরে দুই দিকেই সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। হত্যার পরিকল্পনায় তারা নতুন দুটি সুইচগিয়ার কিনেছিলেন। ঘটনার সময় ছুরি প্রয়োগ করেছে মাহীর। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত খুন বলে ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্ষা ও মাহীরের নয় বছরের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে বর্ষা জোবায়েদকে পছন্দের কথা জানিয়ে দেয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে তিনি আবার বললেন, জোবায়েদ ভালো লাগে না। তখন দুজন মিলেমিশে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এ ঘটনার সময়ে জোবায়েদ ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল‑এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়‑র পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯‑২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বর্ষাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। ধাবস্থ প্রস্তুতি চলছে। জোবায়েদকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
তিনি জানতে পড়াতেন পুরান ঢাকার আরমানীটোলা‑র নুরবক্স লেনে। রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রীর বাসায় উঠার সময় তৃতীয় তলার সিঁড়ি অংশে খুন হন। সেই সিঁড়ির নিচ তলা থেকে তার রক্তপ্লাবিত খুনের দৃশ্য পাওয়া গেছে।
সূত্রঃ আমার দেশ
