বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিছু গোষ্ঠী।
রোববার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “দেশে অস্থিরতা তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হতে পারে। এর পেছনে ‘পতিত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।” তবে বিষয়গুলো তদন্তাধীন থাকায় এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি।
ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি রাজনৈতিক দল তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, এবং তিনি সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আচরণ এমনই হওয়া উচিত— তারা যেভাবে বলেছেন, তা সম্মানের সঙ্গে বলা হয়েছে।
‘জুলাই যোদ্ধা’ ও বক্তব্যের অপব্যাখ্যা প্রসঙ্গে
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য আংশিকভাবে কাটছাঁট করে প্রচার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠন বিএনপির সঙ্গে এবং ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। তিনি নিজেও তাদের কিছু যৌক্তিক দাবির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে ঐক্যমত্য কমিশনের ‘জুলাই সনদ’-এ প্রতিফলিত হয়।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সংসদের সামনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার ভাষায়, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই ঘটনায় কিছু ছাত্রনামধারী উশৃঙ্খল ব্যক্তি প্রবেশ করেছিল, যারা আসলে সরকারের ফ্যাসিস্ট বাহিনীর অংশ।
তিনি বলেন, আমি চাই না ‘জুলাই যোদ্ধা’দের নাম ব্যবহার করে কোনো গোষ্ঠী তাদের সম্মানহানি করুক। বরং আমি তাদের সম্মান রক্ষা করতেই বক্তব্য দিয়েছিলাম।
সরকারি বাহিনীর বিশৃঙ্খলার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থিত বাহিনী বিভিন্ন স্থানে এখনো বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর প্রমাণ আমরা গতকালই দেখেছি।
সূত্রঃ আমার দেশ
