প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে যমুনার নিরাপত্তা জোরদারে কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে শাহবাগ এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জলকামান ব্যবহার করা হয়। এতে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও পরে তারা আবার সংগঠিত হন।
পরে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে এগোতে চাইলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েও পুলিশ তাদের আটকে দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কয়েক দফা টিয়ারগ্যাস ছোড়া হলেও আন্দোলনকারীরা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
এর আগে সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে সরকারি কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দিলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।
‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং তা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবি আদায়ে এর আগে টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারা দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তরে চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
সূত্রঃ আমার দেশ
