হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা নয়: ইরান
ইসরায়েলের টানা হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানান, যদি ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ না করে, তাহলে ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবে না।
ইরান সরকারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির ‘দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত’ ও ‘কঠিন সময়’ আসার পূর্বাভাস দিয়েছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক বিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা আসে।
ইউরোপীয় অনুরোধ ও ইরানের অবস্থান
জেনেভায় ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ইরানকে পরমাণু আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানান। তবে আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, যতক্ষণ ইসরায়েলের হামলা চলবে, ততক্ষণ আলোচনা অগ্রহণযোগ্য।
তিনি জানান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করাই দেশটির লক্ষ্য। “ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই,” বলেন তিনি।
সংঘাত অব্যাহত, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি
গত রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদাগার ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেল আভিভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেন্ট্রাল ইসরায়েলের একটি ভবনে আগুন ধরেছে।
ইসরায়েলের দাবি, শুক্রবার ইরান হাইফা শহরের দিকে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যাতে একজন নারী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫-এ পৌঁছেছে। পাল্টা হামলায় ইসরায়েলও ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
মৃত্যুর মিছিলে বাড়ছে উদ্বেগ
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থা এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৩৯ বলে দাবি করেছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা এবং পরমাণু বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সময়সীমা ও ইউরোপের ভূমিকাকে অবজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, “আমার সিদ্ধান্ত আরও আগে আসতে পারে।ইউরোপের মধ্যস্থতা চেষ্টাকে ট্রাম্প একরকম নাকচ করে বলেন, “ইরান ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় না, তারা আমাদের সঙ্গেই কথা বলতে চায়।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি।ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারট জানান, ইরানকে আহ্বান জানানো হয়েছে হামলার বিরতি না আসলেও কূটনৈতিক সমাধানে ফিরে আসার জন্য।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান ইস্যুতে সামরিক সমাধান নয়, বরং রাজনৈতিক পথই নিরাপদ এবং সরকারের জোরপূর্বক পরিবর্তন চাওয়ার চিন্তা বিপজ্জনক হতে পারে।
সূত্রঃ একুশে
