মাদারীপুরের সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ সেতুর প্রায় ৫০ মিটার দূরত্বে অবৈধ বালু ব্যবসা চলছে—তার নিয়ন্ত্রক, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল “দেদুল” বেপারী। তারা আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে, সেতুর পাশে দুটি ব্রেজ তৈরি করে সেখানেই বালু জমিয়ে রাখে। প্রশাসন অনেক দিনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড দেখেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেনি। এই অবস্থা যদি চলতে দেয়া হয়, সেতুর নিকটবর্তী তীরভাগে ভাঙন শুরু হতে পারে এবং সেতুটি itself ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পাশেই বালু স্টোকের জন্য বড় ব্রেজ গড়ে ওঠেছে। আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে বালু উত্তোলন করে সরাসরি ওই ব্রেজে আনলোড করা হয়। ব্রেজের ঠিক কাছে—মাত্র ৫০ ফুট দূরেই—সেতুটি অবস্থিত। বালু উত্তোলন ও আনলোডের সময় সৃষ্ট ঢেউ বা চাপের কারণে সেতুর পিলার অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। প্রতি দিন বালু আনা-নেওয়ার পালা চলাচল করছে, এবং সেই বালু পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।
স্থানীয়দের কথায়, এই বন্ধ্যাত্ব শুরু নয়—এর আগে সেতুর কাছে বালু স্তূপ ও ব্যবসার দায়িত্ব ছিল মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও তাঁর ছেলে রাজিবের হাতে। তারা দেদুল ও স্থানীয়দেরকে আশ্রয় দিতেন। ৫ আগস্টের ঘটনা এবং রাজনৈতিক উত্তপ্ত আবহে সেক্ষেত্রে তারা আত্মগোপনে চলে যাওয়া পর, দেদুল পুনরায় এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দেখা গেছে, দেদুল ও স্থানীয় রুহুল মিয়া এখন আশেপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ব্যবসা চালাচ্ছে অনেকরকম সহযোগীসহ।
অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের “মামুন” নামে এক ব্যক্তি ড্রেজার চালিয়ে নদীর অন্তত পাঁচটি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করছেন। সেই বালু দেদুলের ব্রেজে নেওয়া হচ্ছে এবং রাতে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধভাবে উত্তোলন করা এই বালু বিক্রি করে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে, যেখানে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বালু পরিবহনে ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে—যা রাস্তা ভাঙাচ্ছে। সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে।
এক গোপন সূত্র বলছেন, দেদুল এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতেও সাহস পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলে হামলার ভয় আছে। সম্প্রতি বিরাঙ্গল গ্রামের লিয়াকত নামের এক যুবক, যিনি হত্যা প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলজিইজির অধীনে নির্মিত প্রায় শতকোটি টাকার সেতুর কাছেই এই সব অবৈধ কর্মকাণ্ড হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সেতুর অন্তত ১,৫০০ থেকে ২,০০০ মিটার দূরে নদীর পলি অপসারণ করা যেতে হবে। কিন্তু মাত্র ৫০০ মিটার দূরিতেই ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন হচ্ছে—যা সেতুর ক্ষতির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, এই অবৈধ উত্তোলন ও অপসরুপে ব্যবহারে সেতুর স্থায়িত্ব বিপন্ন হতে পারে। দ্রুত এই অবস্থা রোধ না করা হলে কোটি কোটি টাকার সেতুটির ক্ষতি হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাবাব ওয়াদিয়া বলেছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে জানতে পেরেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কোনো কোনো সময় জরিমানা ও জেল দেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে এসব অবৈধ কাজ বন্ধ হবে।
দেদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যাওয়া হলে তিনি পাওয়া যাননি—তার মোবাইল বন্ধ আছে, মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ আমার দেশ
