হাসিনা-রেহানা পরিবারের সরকারি প্লট বাতিল করা হচ্ছে

অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি প্লট বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে, যারা বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্লট বাতিলের ব্যাপারে সুপারিশ তৈরি করবে। রাজউক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা, সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের কূটনৈতিক জোনে ৬০ কাঠা জায়গা বরাদ্দ করা হয়। এসব প্লট বরাদ্দে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা হলফনামা এবং রাজউকের আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্লট বা ফ্ল্যাট না নিতে পারে, সে জন্য রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা সংশোধন করছে সরকার। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশোধনীর খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন করেছেন। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও একই ধরনের অপরাধে জড়িত বলে বলা হয়েছে।

রাজউক বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি পদাধিকারী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক বা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দের নিয়ম ছিল। তবে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব বিধি লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, রাজউক এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বিশেষ কোটায় বরাদ্দের বিধান বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনীর খসড়ায় এইসব বিধান বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ কোটার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, এবং তাদের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, শুধু প্লট বাতিল করা হবে না, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *