বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর–দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করেন যে অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, গুম ও খুনের মাধ্যমে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারে না। তাঁর দাবি, জামায়াতকে দমনে সরকার বিশেষ আইন প্রণয়ন করে নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ফাঁসির রায় দিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে নেতা–কর্মীদের হয়রানি করেছে। কিন্তু এসব পরিস্থিতিই জামায়াতের কর্মীদের বিশ্বাস ও শক্তি আরও বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আল্লাহর বিচার এমনই যে, একই আইনে এখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারেরই ফাঁসির রায় হয়েছে।”
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ জামায়াত অফিস চত্বরে নির্বাচনি দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অতীত সরকার আমলে ৭০ জন হাফেজ ও ৪০০ জন আলেম প্রাণ হারিয়েছেন, জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর মতে, এসব ঘটনার প্রতিশোধ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হবে না; বরং সংসদে ইসলামী নেতৃত্ব পাঠিয়ে সেই জুলুমের জবাব দেওয়া হবে।
আবদুল হালিম দাবি করেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তারা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে—যেখানে জনগণ দুর্নীতি, অনিয়ম, বৈষম্য ও টাকা পাচার দেখতে চায় না। তিনি মনে করেন, দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় ভবিষ্যতে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি নেতা–কর্মীদের ভোটের মাঠে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলেও এখন সেখানে শিবিরের রাজনীতি উন্মুক্তভাবে চলছে। তাঁর মতে, আগে কেন্দ্রীয় থেকে উপজেলা পর্যায়ের অফিসে প্রবেশ করাও কঠিন ছিল, অথচ এখন পুরো বাংলাদেশ জামায়াতের জন্য উন্মুক্ত—যা ইসলামী বাংলাদেশ গঠনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফেরদৌস আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনি সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী–৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর উপজেলা আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন—নীলফামারী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খাইরুল আনাম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবির রংপুর মহানগরের সভাপতি নুরুল হুদা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আক্তারুজ্জামান বাদল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম রতন, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, শিব্বির আহমেদ, এবং পুটিমারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আফজালুল হক।
সমাবেশে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪৬০ জন দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ করেন।
সূত্রঃ আমার দেশ
