আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে বিএনপির পদে নিয়োগ, রংপুরে ক্ষোভ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ঘিরে চলছে সমালোচনার ঝড়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাধানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে নজিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নজিবুল ইসলাম শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থকই নন, বরং দলটির হয়ে অতীতে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।
বিএনপির কর্মী মেহেদী হাসান রানা ও রানা নামে দুইজন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, নজিবুল নিয়মিতভাবে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডিউক চৌধুরীর পক্ষে প্রচার চালাতেন এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। এমনকি ‘সুখপাখি’ ও ‘নজিবুর ইসলাম’ নামে দুটি ফেসবুক আইডি থেকে নৌকার পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণাও চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই নিয়োগে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। ইউনিয়নের কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বলেন, যিনি নৌকায় ভোট দিয়েছেন, তিনি কিভাবে ধানের শীষের নেতা হন? এভাবে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিএনপি নেতা মমিনুল হকের অভিযোগ, দুঃসময়ে যারা দলের পাশে থেকেছেন, তাদের উপেক্ষা করে এমন একজনকে পদে বসানো আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান প্রামাণিক বলেন, আমরা নজিবুল ইসলামের অতীত যাচাই না করেই পদ দিয়েছি। এখন তৃণমূলের আপত্তি এসেছে, তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী একে গভীর ত্রুটি বলে উল্লেখ করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পদ বাতিল করা হবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুও বলেন, দলীয় আদর্শের বিরোধী কেউ দায়িত্বে থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জেলা কমিটি হস্তক্ষেপ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও যাচাই-বাছাইয়ের অভাব থেকেই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যা ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, নজিবুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।” তবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সূত্রঃ আমার দেশ
