বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা ‘ভিলেন অভিনেত্রী’। তার দাবি, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের গণভবনে ডেকে নিয়ে শেখ হাসিনা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সান্ত্বনা দিতেন, অথচ এর আড়ালেই গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার মানসিকতা লুকিয়ে রেখেছিলেন।
শনিবার সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেজর হাফিজ। উপজেলা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল।
মেজর হাফিজের ভাষ্য, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা তাদের আশ্বস্ত করতেন যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনা এমনভাবে অভিনয় করেছেন যে সে সময় সাধারণ মানুষ প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারেনি। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সামনে আসায় বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন প্রমাণের কথা উল্লেখ করে মেজর হাফিজ দাবি করেন, এসবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ জনগণের কাছে আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার ভাষায়, ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে শেখ হাসিনা তার ভূমিকা পালন করেছেন।
মেজর হাফিজ আরও অভিযোগ করেন, একজন ব্যারিস্টারকে দীর্ঘ আট বছর হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল। সেখানে তার ওপর অত্যন্ত নির্মম আচরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্তি পান এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
বিগত সরকারের সময়কার কথিত দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মেজর হাফিজ। তিনি দাবি করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার জন্য ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া সাবেক এক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি’ ছিলেন।
তিনি বলেন, ২০১০ সালের উপনির্বাচনের সময় ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনের বেলায় তার নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। এ সময় রামদা দিয়ে কুপিয়ে কয়েকজনকে আহত করার পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মেজর হাফিজ জানান, ওই সময় তার নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। তাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
মতবিনিময় সভার শেষ দিকে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে তারা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
