বিএনপি-জামায়াত এক না থাকায় রাজনৈতিক মাঠে সুযোগ পাচ্ছে আওয়ামী লীগ, মন্তব্য নাসীরুদ্দীনের

বিএনপি-জামায়াতের অনৈক্যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

বিএনপি ও জামায়াতের পারস্পরিক অনৈক্যের কারণে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে ‘জুলাই সনদে কৃষকের বঞ্চনা ও ন্যায্যতা’ বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, দুই দল নিজেদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, যার সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমাদের একদিকে জামায়াতের ভাইয়েরা, অন্যদিকে বিএনপির ভাইয়েরা— একজন কর্মসূচি দিলে আরেকজন পরদিন তা দেয়। এই পারস্পরিক তর্ক-বিতর্কের মাঝেই শেখ হাসিনা দেশে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায়ের তারিখ ঘোষণা (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’। পাটোয়ারীর ভাষায়, এই রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ অনলাইনে ভীতি ছড়াচ্ছে। তারা গত ১৫ বছরে যে অর্থনৈতিক দুর্নীতির কাঠামো তৈরি করেছিল, সেই টাকাই এখন সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে— ককটেল বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে বাসে আগুন পর্যন্ত।

কারও নাম না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সম্ভাব্য রাষ্ট্রনায়ক বলেছেন, গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ মন্তব্য তার অজ্ঞতাকে প্রকাশ করে। তিনি বুঝতে পারছেন না, যাকে এমপি মনোনয়ন দিচ্ছেন, সেই ব্যক্তিরাই কৃষকদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আলুর দাম বাড়াচ্ছে।

তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, নিজেদের লোক দিয়ে বাজারদর বাড়িয়ে কৃষকদের ওপর দায় চাপানো এক ধরনের অপরাজনীতি— যা গত ১৫ বছর ধরে চলে আসছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানাই— আপনারা শালীনতা ও সংযমের রাজনীতি করুন।

সভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রতিটি শাখাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে হলে এর বাস্তবায়ন আদেশ সরকারকেই দিতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, কৃষক উইংয়ের যুগ্ম সমন্বয়কারী হাফসা জাহান ও সাঈদ উজ্জ্বল, সংগঠক সুলতান হোসেন, মো. শাহজাহান, মাসুদ রানা, মো. রাসেল হোসেন ও মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *