গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার বিবরণ

তিনটি মামলার মধ্যে দুটি ‘গুমের’ মামলা—একটি টিএফআই সেলে এবং অপরটি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত। তৃতীয়টি ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে ঢাকার রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।

ট্রাইব্যুনাল একইসঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের হাজির করতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে—গুম মামলার জন্য ২০ নভেম্বর এবং রামপুরার মামলার জন্য ৫ নভেম্বর।

আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির ও নিরাপত্তা

বুধবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ জেলের একটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে সাধারণ পোশাকে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত সেনা কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ঢাকা সেনানিবাসের একটি সাবজেলে রাখা হবে।

আসামিদের পরিচয় ও সেনাবাহিনীর অবস্থান

এর আগে গত ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মোট ৩০ আসামির মধ্যে ২৫ জন সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, ১ জন এলপিআরে, এবং ১৫ জন তখনও কর্মরত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতার ও ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে সেনাবাহিনী পূর্ণ সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে সেনাবাহিনী আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে, যা একটি শক্ত বার্তা।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল ৮ অক্টোবর

এর আগে ৮ অক্টোবর গুম ও নির্যাতনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন রামপুরার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম, মো. রাফাত বিন আলম মুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আমলে নেয় আদালত।

সূত্রঃ একুশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *