ইরানের প্রতিবেশীদের কাছে ‘ভয়ংকর’ অস্ত্র বিক্রিতে সবুজ সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশের কাছে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্ভাব্য এসব অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চুক্তিটি সৌদি আরবের সঙ্গে। দেশটির কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বোমা, গাইডেন্স কিট ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির প্রধান মার্কিন ঠিকাদার হিসেবে থাকছে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।

চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের জন্য কয়েক হাজার গাইডেড বোমা ও গাইডেন্স কিট সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৪টি KMU-572 এবং ৫ হাজার KMU-556 JDAM গাইডেন্স কিট। পাশাপাশি রয়েছে ৫ হাজার ৪টি BLU-111 ৫০০-পাউন্ড বোমা এবং ৫ হাজার BLU-117 দুই হাজার-পাউন্ড বোমা

এছাড়াও সম্ভাব্য প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের ফিউজ সিস্টেম, টার্গেট ডিটেক্টর, কনটেইনার, খুচরা যন্ত্রাংশ, সহায়ক ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি প্রকৌশল, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সৌদি আরবের জন্য আরও একটি সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের AGT-1500 ইঞ্জিন বিক্রির প্রস্তাব রয়েছে। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে হানিওয়েল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সামরিক সরঞ্জাম সৌদি বাহিনীর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সৌদি আরবে অতিরিক্ত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি কর্মী পাঠানোরও প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সরকারের মতে, এসব সরঞ্জাম সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সমন্বয়ও বাড়বে।

সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই সামরিক সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে শুধু সৌদি আরব নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও দুটি দেশের জন্যও সামরিক বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানের জন্য ১৮৮ মিলিয়ন ডলারের F-16 বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তা সেবা এবং ইরাকের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলারের Bell 412EPX হেলিকপ্টার বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: StarNews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *