আওয়ামী লীগকে অপপ্রচারকারী দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলটির সঙ্গে এখন আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই দল একসঙ্গে অপপ্রচার ও কুৎসা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ ছিল একটা অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুপ্ত দল। তারা এই অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন। আমি বলেছি, প্রমাণ আছে। নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তারা বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবেন, তাদের সবকিছু বৈধ করে দেবেন।”
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, অপপ্রচার ও কুৎসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং ওই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় পারবে না। তাঁর ভাষ্য, একটি দল নিষিদ্ধ ঘোষিত, আরেকটি বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। তবে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর ধরনে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট দলটি নিজেরাই বলেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন রিজভী। বিভিন্ন ঘটনা ও বক্তব্যে তাদের আচরণের সঙ্গে গুপ্ত ও পরাজিত শক্তির আচরণের মিল পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে অতীতে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেখিয়েছে, সরকার সতর্ক থাকলে ষড়যন্ত্রকারী বা নীলনকশাকারীরা তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ পায় না।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী সরকার ও বিএনপিকে সম্পৃক্ত করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
রিজভীর দাবি, বিএনপি সব সময় স্বচ্ছতার সঙ্গে কথা বলে ও কাজ করে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত থাকতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাতে মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা জরুরি।
তিনি জানান, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সম্প্রতি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম মহানগর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব এলাকার রাস্তাঘাট যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখেছেন।
দুর্গাপূজার কারণে কয়েক দিন ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গত পাঁচ-ছয় দিন উৎসবের পরিবেশ থাকায় নিয়মিত কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় এ সময় পূজার আয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের বাদ্য আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ থেকেও অনেকে বাংলাদেশে এসে দুর্গাপূজায় অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেছেন তাঁরাও।
