অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

রোববার প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ সময় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য, গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও করেন।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, মাদকের আস্তানাগুলোর কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবেই তিনি ওই এলাকায় যান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দের কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তার অভিযোগ, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ছবি এবং খণ্ডিত শিরোনামের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে না। প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমের প্রতি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *