বিএনপির নেতা–কর্মীদের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভুইয়া (ফুয়াদ)। তিনি অভিযোগ করেন, দলের ভেতরে যারা ‘নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী’ মনোভাব দেখাচ্ছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। তার ভাষায়, চর দখলের আদলে নির্বাচন করে ক্ষমতায় গেলে ’২৪–এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিস্মৃত হওয়া চলবে না।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন ফুয়াদ।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিএনপি যদি নিজেদের নেতা–কর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে এমন কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে ‘শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ পতন’ ঘটতে পারে।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফুয়াদ দাবি করেন, ভোটে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভূমিকা তিনি পেশাদার উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুয়াদ ঈগল প্রতীকে পান ৬১ হাজার ১৯২ ভোট।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে দখল, অস্ত্র প্রদর্শন, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাবুগঞ্জে কেন্দ্র দখলের পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন মুলাদীর দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, মুলাদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সেখানে অনিয়ম বেশি হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে নিরাপদ স্থানে গিয়ে এজেন্টরা ফোনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি কেন্দ্রের অনিয়মের ছবি প্রদর্শন করে ফুয়াদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ‘চর দখল ও জালিয়াতির নির্বাচন’ হয়েছে। তার দাবি, গণভোটের চেয়ে এমপি নির্বাচনে বেশি ভোট পড়া বড় ধরনের কারচুপির ইঙ্গিত দেয়।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
