অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবে বর্তমান সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান তৃতীয় অধিবেশনের দিনের কর্মসূচির শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রকল্পের সমীক্ষা যাচাই, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কুতুবজোনে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডিজেলচালিত পাম্পের ব্যবহার কমিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলার প্রাকৃতিক ও গ্যাস সম্পদ কাজে লাগিয়ে সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অবদান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মেরিন প্ল্যানিং জোন তৈরি করা হবে।
