সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট পরিপন্থী দাবি করে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন। রোববার রাতে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরকারের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
নজিবুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ মুসলমানের বাস্তবতায় কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো আইন করা হবে না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বিলটি পাসের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিলটির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জাকাতবিষয়ক উপদেষ্টাও রয়েছেন, তারা মনে করেন—আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে সম্পত্তি দানের যে বিধান বিলে রাখা হয়েছে, তা ইসলামী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্ধারিত মিরাস বা উত্তরাধিকার আইনকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
নজিবুর রহমান আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্টেও মুসলমানদের উত্তরাধিকার, হেবা, বিবাহ ও পারিবারিক বিষয় শরিয়ত অনুযায়ী পরিচালনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো সামাজিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে তার মতে, এ ধরনের সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ইসলামী পারিবারিক আইনকে পাশ কাটানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। মা-বাবার অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালেই আইন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে সতর্ক করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করে এমন আইনের পক্ষে যারা ভোট দেবেন, তাদের প্রত্যেককেই এর দায়ভার বহন করতে হবে।
