কর্মসংস্থান হ্রাসের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বরখাস্ত মার্কিন পরিসংখ্যান প্রধান
গত তিন মাসে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বরখাস্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর প্রধান এরিকা ম্যাকএন্টারফার। শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অপসারণের নির্দেশ দেন। খবর—এপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ম্যাকএন্টারফার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান বিকৃত করেছেন। তিনি লেখেন, রিপাবলিকান এবং আমাকে খারাপ দেখানোর জন্য কর্মসংস্থানের হার কমিয়ে দেখানো হয়েছে। বাইডেনের রাজনৈতিক নিয়োগকর্তাকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছি এবং তার স্থানে আরও যোগ্য কাউকে আনব।
পরবর্তীতে শ্রম সচিব লরি শ্যাভেজ-ডিরেমার এক্সে পোস্ট দিয়ে জানান, বিএলএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংস্থার ডেপুটি কমিশনার উইলিয়াম উইয়াট্রোস্কি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে আমি সমর্থন করি। জনগণ বিএলএসের তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৭৩ হাজার। এছাড়া মে ও জুনের চাকরি বৃদ্ধির পূর্ববর্তী হিসাব সংশোধন করে বলা হয়, ধারণার চেয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার কম চাকরি তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সমীক্ষায় দেরিতে সাড়া দেওয়ায় এবং শুল্কের প্রভাবের কারণে এ সংকোচন ঘটতে পারে।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই সাবেক বিএলএস কমিশনার—উইলিয়াম বিচ (ট্রাম্প আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত) এবং এরিকা গ্রোশেন (ওবামা আমল)—এক যৌথ বিবৃতিতে বরখাস্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে ফ্রেন্ডস অব বিএলএস গ্রুপও।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিমাপের ‘স্বর্ণমান’ হিসেবে পরিচিত বিএলএসের তথ্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, ম্যাকএন্টারফারকে অপসারণের মাধ্যমে ট্রাম্প সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছেন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের নতুন নজির তৈরি করছেন।
প্রসঙ্গত, ২০ বছরেরও বেশি সময় সরকারি চাকরিতে থাকা ম্যাকএন্টারফার ২০২৩ সালে বিএলএসের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান এবং মার্কিন সিনেটে প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছিলেন।
সূত্রঃ কালবেলা
