ফ্লোটিলার মানবাধিকারকর্মীরা ইসরায়েলি কারাগারে নিগ্রহের শিকার, খাদ্যও দেওয়া হয়নি

ইসরায়েলি কারাগারে গ্রেটা থুনবার্গসহ ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীরা কারাগারে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ

মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আদালাহ শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানায়, ফ্লোটিলার বেশ কয়েকজন বন্দি পর্যাপ্ত খাবার ও পানির অভাবে ভুগছেন। কেউ কেউ শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।

এ তথ্য ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এবং তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি-র প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

কারাগারে কঠোর পরিবেশে গ্রেটা থুনবার্গ

২২ বছর বয়সী গ্রেটা থুনবার্গ বর্তমানে ইসরায়েলের একটি কারাগারে কঠোর, অনুপযুক্ত ও অনিরাপদ পরিবেশে বন্দি রয়েছেন বলে জানায় সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দূতাবাস কর্মকর্তারা থুনবার্গের সঙ্গে দেখা করার পর জানান, তিনি পানিশূন্যতা ও চর্মরোগে (ছারপোকা-জনিত ফুসকুড়ি) ভুগছেন।

গ্রেটার অভিযোগ, তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শক্ত মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছে, এবং বন্দিদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল “অত্যন্ত অপমানজনক ও রূঢ়”।

এক বন্দি জানান, গ্রেটা থুনবার্গ এবং তাকে ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। অন্য একজন বলেন, থুনবার্গকে “ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়”।

আটক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও অপমান

আদালাহর আইনজীবীদের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, আটক প্রক্রিয়ার সময় অনেককে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে এবং ঘুষি মারা হয়েছে।
কেউ কেউ জানান, তাদের রোদে হাঁটু গেড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়— কোনো বিশ্রাম ছাড়াই।

বুধবার রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজাগামী ফ্লোটিলা অভিযান চালিয়ে ৪২টি নৌযান ও ৪৫০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক কর্মীকে আটক করে। এর মধ্যে ১৩৭ জনকে তুরস্কের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর মন্তব্য: ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ‘কেতজিওত’ কারাগার পরিদর্শন করে বলেন,

এই অধিকারকর্মীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রাখা হচ্ছে। তারা এখন ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের মতোই কঠোর শর্তে রয়েছে।

বেন গভির আরও বলেন, যেমনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এসব কর্মীরা আর কোনো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন না।

ব্লকেডবিরোধী মানবিক ফ্লোটিলা অভিযানের পটভূমি

উল্লেখ্য, গাজার ওপর দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের প্রতিবাদে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযান চালু হয়েছিল।
তবে ইসরায়েল অভিযানের শুরুতেই একে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক অভিযান চালায়।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *