৫ আগস্টকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের অঙ্গীকারের দিন হিসেবে গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিস্ট শাসক বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছিল। সেই মুহূর্তে দেশ রাহুমুক্ত হয় এবং স্বাধীনতাকামী গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের কাছে দিনটি বিজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা প্রতিবছর সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে।
অতীতের পরিস্থিতি ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার দেড় দশক ধরে দেশকে বিভীষিকায় নিমজ্জিত করেছিল—গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছিল। গণতন্ত্রপন্থী শক্তির লাখো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার কারণে ঘরছাড়া হয়েছে, বহু পরিবার ভেঙে গেছে। মানুষের কণ্ঠরোধ করতে ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালা গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে জীবিত মানুষদের বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো এবং অনেকে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তরুণ প্রজন্মের হাতে বই-খাতার বদলে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। অর্থনীতি ধ্বংস করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করা হয় এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।
গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগ
তারেক রহমান জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এক হয়েছিল। স্বৈরাচার দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়, শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউই রেহাই পায়নি। শুধু এই অভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা অন্ধ হয়ে গেছেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে একটি তুলনা: ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। যেমন ৭১-এর শহীদদের বাংলাদেশ ভুলেনি, তেমনি ২৪-এর শহীদদেরও ভুলবে না।
ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো যাবে ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলে—যেখানে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আহ্বান জানান: জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ সরকার গঠনই এই যাত্রার প্রথম ধাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
জাতীয় ঐক্যের বার্তা
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, হিটলারের নাৎসিবাদের মতোই ফ্যাসিস্ট শাসনের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কিছু নেই। ৫ আগস্ট যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ উৎখাত হয়েছে, তা বাংলাদেশে আর কখনো ফিরতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে এই ভিন্নমত যেন কখনো উগ্রবাদ বা চরমপন্থার পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও মানবিক আহ্বান
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর তারেক রহমান বলেন, বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলেই বিজয় মহিমান্বিত হয়। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, মব ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত না করে এবং নারীর প্রতি সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকে।
সমাপ্তি বার্তা
শেষে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা হবে মায়ের চোখের মতো—নিরাপদ ও মানবিক। আজ এবং ভবিষ্যতের প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতার অঙ্গীকারের দিন।
সূত্রঃ একুশে
