চীনা পণ্যে ৫০০% শুল্ক চায় ট্রাম্প প্রশাসন, ইউরোপকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: টেলিগ্রাফ
চীনের পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন— এমনটাই দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এই কঠোর শুল্ক আরোপের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প নিজেই “বাণিজ্য যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
‘ইউক্রেন বিজয় তহবিল’ প্রক্রিয়ার অংশ
দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই শুল্ক হবে একটি নতুন উদ্যোগের অংশ, যার নাম ‘ইউক্রেন বিজয় তহবিল’ (Ukraine Victory Fund)। এই তহবিল গঠনের মাধ্যমে ইউক্রেনকে আরও সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরের আগেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, চাপ বাড়ছে ইউরোপের ওপর
চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি এবং সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা বেইজিংকে “শাস্তি” দিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র চায় ইউক্রেন, ব্যয় বইবে ইউরোপ?
অন্যদিকে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, কিছু শর্ত সাপেক্ষে এটি অনুমোদন পেতে পারে। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয়ভার বহন করবে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো।
মস্কোর হুঁশিয়ারি
রাশিয়া ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ার করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা এই যুদ্ধের মোড় বদলাতে পারবে না। মস্কোর ভাষায়, ইউক্রেনের প্রতি সহায়তা বাড়ানো শুধু সংঘাত দীর্ঘায়িত করবে, সমাধান নয়।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
