রাষ্ট্রপতির চাঞ্চল্যকর প্রকাশ: যেভাবে ভেস্তে যায় অপসারণের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে তার দেড় বছরের দায়িত্বকাল নিয়ে এক আলোচিত সাক্ষাৎকারে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন। জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এ সময় তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরং তাকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক তৎপরতা ও অপসারণের চেষ্টা চলেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ও গণআন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা তাকে অপসারণের পক্ষে অবস্থান নেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও একপর্যায়ে সেই সুরে সুর মেলায়। বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে বৈঠক-আলোচনা চলে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতির দাবি, সে সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপি ও তাদের জোটের সমর্থনের কারণেই অপসারণের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও বলেন। শুরুতে কৌতূহল থাকলেও পরে তাকে আন্তরিক ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তার অভিযোগ, দাপ্তরিক যোগাযোগ প্রায় ছিল না বললেই চলে। সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, ওই সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হলেও সেসব বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কখনো বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে যাননি এবং স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার দুই দফা বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয় এবং প্রেস উইং কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও ফলপ্রসূ হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার বর্ণনায়, দায়িত্বকালের একটি বড় অংশ কেটেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে; তবে শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক অবস্থান থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি বলেই দাবি করেছেন।

সূত্রঃ একুশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *