রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। শেষ ধাপের এই অভিযানে পন্টুন সরিয়ে আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উদ্ধার কাজ সহজ করতে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে ডুবুরিরা বৃহত্তর এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে পারে। টানা কয়েকদিনের প্রচেষ্টার পর এই অভিযানকে চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে অভিযান আরও জোরদার হয়। তবে নদীর গভীরতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে শুরু থেকেই উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই নদীর তীরে স্বজনদের কান্নায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, সম্ভাব্য সব এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। আজকের অভিযান শেষে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে, তবে নিখোঁজদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ঘাট ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা ও তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সূত্রঃ আমার দেশ
