যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানতে মঙ্গলবার রাত থেকেই অপেক্ষায় থাকবেন দেশটির ভোটাররা। এ নির্বাচন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে সরিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির।

নির্বাচনের ফল কখন থেকে পাওয়া যাবে, কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ফলাফল নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হলে তার সমাধান কীভাবে হবে—এমন নানা প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

কখন আসতে শুরু করবে নির্বাচনের ফল?

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি এলাকায় বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকেও ফল আসতে থাকবে।

তবে সব আসনের ফল একই সময়ে পাওয়া যাবে না। কোনো কোনো আসনের চূড়ান্ত চিত্র জানতে বুধবার পর্যন্ত, এমনকি তার পরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ, অঙ্গরাজ্যভেদে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া, ব্যালট গণনা এবং ফল প্রকাশের সময়সূচিতে পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক ফল প্রকাশ মানেই কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা নয়। প্রথমে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা করে ফল প্রকাশ করেন। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদমাধ্যম প্রাপ্ত ফল পর্যালোচনা করে কোনো আসনে বিজয়ী নির্ধারণ করে।

ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে বিজয়ী নির্ধারণে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের হাতে থাকছে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা একটি কিংবা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কখন শেষ হবে ভোটগ্রহণ?

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায় সবার আগে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। এরপর সময়ের ব্যবধানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও ভোটগ্রহণ শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় নিচে তুলে ধরা হলো—

ভোর ৫টা

ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৬টা

ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ার অধিকাংশ এলাকায় ভোট শেষ হবে। একই সময়ে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির অবশিষ্ট অংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ এলাকার ভোটগ্রহণও শেষ হবে।

সকাল ৬টা ৩০ মিনিট

নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে।

সকাল ৭টা

আলাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাকি অংশ, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এ সময় ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কয়েকটি এলাকাতেও ভোট শেষ হবে।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিট

আরকানসাসে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৮টা

অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ে ভোট শেষ হবে। একই সময়ে কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের অবশিষ্ট এলাকাতেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে।

সকাল ৯টা

মন্টানা, নেভাদা, ইউটা এবং আইডাহো ও ওরেগনের কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ১০টা

ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনে ভোট শেষ হবে। পাশাপাশি আইডাহো ও ওরেগনের বাকি এলাকাতেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে।

বেলা ১১টা

হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

দুপুর ১২টা

পশ্চিম আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জসহ আলাস্কার অবশিষ্ট এলাকায় ভোট শেষ হবে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে ফল পেতে বেশি সময় লাগতে পারে

কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার বিশেষ পদ্ধতি, ডাকযোগে আসা ব্যালট যাচাই এবং স্বাক্ষর পরীক্ষা করার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। উল্লেখযোগ্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো—

আলাস্কা

এ অঙ্গরাজ্যে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে বিজয়ী নির্ধারণের জন্য একাধিক ধাপে ব্যালট গণনা করতে হয়। সরাসরি আগাম ভোট ও নির্বাচনের দিনের ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশ করা হলেও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের হিসাব পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। বাকি ভোটের হিসাব প্রকাশ করতে আরও কয়েক দিন সময় লেগেছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া

এ অঙ্গরাজ্যে অধিকাংশ ভোট ডাকযোগে নেওয়া হয়। নির্বাচনের দিন পার হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক ব্যালট পৌঁছাতে পারে। এসব ব্যালট যাচাই-বাছাই করে গণনা করতে হয়। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের কোনো আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অ্যারিজোনা

এখানে কয়েকটি কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানোর ব্যালট জমা দেন। এসব ব্যালট গণনার আগে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি এমন আসনে এ প্রক্রিয়ার কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন বিলম্ব হতে পারে।

নেভাদা

অঙ্গরাজ্যটির সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালটও পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্বাক্ষরসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয় দিন সময় পান। এসব কারণে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

মেইন

আলাস্কার মতো মেইনেও র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ব্যালটগুলো আরও গণনার জন্য রাজ্যের রাজধানী অগাস্টায় পাঠানো হয়। এ কারণে চূড়ান্ত ফল জানতে দেরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন

এ অঙ্গরাজ্যেও ডাকযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালট পরবর্তী দিনগুলোতে এসে পৌঁছাতে পারে এবং সেগুলো গণনা করতে হয়। ফলে ফল প্রকাশে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ফল পাওয়া যেতে পারে

অন্যদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের ব্যবস্থা তুলনামূলক দ্রুত। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবারও এসব অঙ্গরাজ্য থেকে দ্রুত ফল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডা

এ অঙ্গরাজ্যে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ৫১ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এপি।

ওহাইও

এখানে আগাম ও অনুপস্থিত ভোটের অধিকাংশ ফল প্রথম দফাতেই প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে প্রথম ফল প্রকাশিত হয়েছিল। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। একই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল জানা যায়।

নর্থ ক্যারোলাইনা

পূর্ব উপকূলের এ অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ভোটের অধিকাংশ ফলও ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপর প্রকাশিত হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।

পেনসিলভানিয়া

২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়ই, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় প্রথম ফল প্রকাশিত হয়। ওই দিন সকাল ৯টা ১২ মিনিটে অর্ধেক ভোটের হিসাব পাওয়া যায়। পরদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

উইসকনসিন

২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ২২ মিনিটের মধ্যে এ অঙ্গরাজ্যের ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।

বিজয়ী নির্ধারণে কত সময় লাগতে পারে?

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই অনেক আসনের বিজয়ী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। কংগ্রেসের এ দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

উদাহরণ হিসেবে, আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে র‌্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ভোট গণনার প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপের গণনা ১৮ নভেম্বর হওয়ার কথা।

সব আসনের নির্বাচনি ফল প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান বেশি, সেখানে সব ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তাই প্রাথমিক ফল দ্রুত এলেই বিজয়ীর নাম দ্রুত নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে আট দিন সময় লেগেছিল।

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে কী হবে?

কোনো আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা হতে পারে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী আবেদন করলেও পুনরায় ভোট গণনার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

প্রার্থীরা নির্বাচনের ফল আদালতেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল গ্রহণ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি মেনে নেব, যদি নির্বাচন সৎভাবে হয়।’

তবে কংগ্রেসের নির্বাচনি ফল পছন্দ না হলেই তা বাতিল করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নেই। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলো নিজ নিজ নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা ও ফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করে। একইভাবে আইনি চ্যালেঞ্জও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলবিদ মালি স্মিথ আলজাজিরাকে বলেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও মেনে নেয় যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিজ নিজ সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতে রয়েছে।

বিরোধের ধরন ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে পুনর্গণনা কিংবা আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারেযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানতে মঙ্গলবার রাত থেকেই অপেক্ষায় থাকবেন দেশটির ভোটাররা। এ নির্বাচন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে সরিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির।

নির্বাচনের ফল কখন থেকে পাওয়া যাবে, কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ফলাফল নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হলে তার সমাধান কীভাবে হবে—এমন নানা প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

কখন আসতে শুরু করবে নির্বাচনের ফল?

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি এলাকায় বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকেও ফল আসতে থাকবে।

তবে সব আসনের ফল একই সময়ে পাওয়া যাবে না। কোনো কোনো আসনের চূড়ান্ত চিত্র জানতে বুধবার পর্যন্ত, এমনকি তার পরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ, অঙ্গরাজ্যভেদে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া, ব্যালট গণনা এবং ফল প্রকাশের সময়সূচিতে পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক ফল প্রকাশ মানেই কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা নয়। প্রথমে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা করে ফল প্রকাশ করেন। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদমাধ্যম প্রাপ্ত ফল পর্যালোচনা করে কোনো আসনে বিজয়ী নির্ধারণ করে।

ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে বিজয়ী নির্ধারণে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের হাতে থাকছে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা একটি কিংবা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কখন শেষ হবে ভোটগ্রহণ?

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায় সবার আগে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। এরপর সময়ের ব্যবধানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও ভোটগ্রহণ শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় নিচে তুলে ধরা হলো—

ভোর ৫টা

ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৬টা

ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ার অধিকাংশ এলাকায় ভোট শেষ হবে। একই সময়ে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির অবশিষ্ট অংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ এলাকার ভোটগ্রহণও শেষ হবে।

সকাল ৬টা ৩০ মিনিট

নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে।

সকাল ৭টা

আলাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাকি অংশ, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এ সময় ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কয়েকটি এলাকাতেও ভোট শেষ হবে।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিট

আরকানসাসে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৮টা

অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ে ভোট শেষ হবে। একই সময়ে কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের অবশিষ্ট এলাকাতেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে।

সকাল ৯টা

মন্টানা, নেভাদা, ইউটা এবং আইডাহো ও ওরেগনের কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ১০টা

ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনে ভোট শেষ হবে। পাশাপাশি আইডাহো ও ওরেগনের বাকি এলাকাতেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে।

বেলা ১১টা

হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

দুপুর ১২টা

পশ্চিম আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জসহ আলাস্কার অবশিষ্ট এলাকায় ভোট শেষ হবে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে ফল পেতে বেশি সময় লাগতে পারে

কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার বিশেষ পদ্ধতি, ডাকযোগে আসা ব্যালট যাচাই এবং স্বাক্ষর পরীক্ষা করার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। উল্লেখযোগ্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো—

আলাস্কা

এ অঙ্গরাজ্যে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে বিজয়ী নির্ধারণের জন্য একাধিক ধাপে ব্যালট গণনা করতে হয়। সরাসরি আগাম ভোট ও নির্বাচনের দিনের ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশ করা হলেও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের হিসাব পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। বাকি ভোটের হিসাব প্রকাশ করতে আরও কয়েক দিন সময় লেগেছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া

এ অঙ্গরাজ্যে অধিকাংশ ভোট ডাকযোগে নেওয়া হয়। নির্বাচনের দিন পার হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক ব্যালট পৌঁছাতে পারে। এসব ব্যালট যাচাই-বাছাই করে গণনা করতে হয়। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের কোনো আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অ্যারিজোনা

এখানে কয়েকটি কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানোর ব্যালট জমা দেন। এসব ব্যালট গণনার আগে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি এমন আসনে এ প্রক্রিয়ার কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন বিলম্ব হতে পারে।

নেভাদা

অঙ্গরাজ্যটির সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালটও পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্বাক্ষরসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয় দিন সময় পান। এসব কারণে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

মেইন

আলাস্কার মতো মেইনেও র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ব্যালটগুলো আরও গণনার জন্য রাজ্যের রাজধানী অগাস্টায় পাঠানো হয়। এ কারণে চূড়ান্ত ফল জানতে দেরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন

এ অঙ্গরাজ্যেও ডাকযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালট পরবর্তী দিনগুলোতে এসে পৌঁছাতে পারে এবং সেগুলো গণনা করতে হয়। ফলে ফল প্রকাশে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ফল পাওয়া যেতে পারে

অন্যদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের ব্যবস্থা তুলনামূলক দ্রুত। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবারও এসব অঙ্গরাজ্য থেকে দ্রুত ফল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডা

এ অঙ্গরাজ্যে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ৫১ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এপি।

ওহাইও

এখানে আগাম ও অনুপস্থিত ভোটের অধিকাংশ ফল প্রথম দফাতেই প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে প্রথম ফল প্রকাশিত হয়েছিল। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। একই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল জানা যায়।

নর্থ ক্যারোলাইনা

পূর্ব উপকূলের এ অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ভোটের অধিকাংশ ফলও ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপর প্রকাশিত হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।

পেনসিলভানিয়া

২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়ই, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় প্রথম ফল প্রকাশিত হয়। ওই দিন সকাল ৯টা ১২ মিনিটে অর্ধেক ভোটের হিসাব পাওয়া যায়। পরদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

উইসকনসিন

২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ২২ মিনিটের মধ্যে এ অঙ্গরাজ্যের ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।

বিজয়ী নির্ধারণে কত সময় লাগতে পারে?

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই অনেক আসনের বিজয়ী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। কংগ্রেসের এ দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

উদাহরণ হিসেবে, আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে র‌্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ভোট গণনার প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপের গণনা ১৮ নভেম্বর হওয়ার কথা।

সব আসনের নির্বাচনি ফল প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান বেশি, সেখানে সব ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তাই প্রাথমিক ফল দ্রুত এলেই বিজয়ীর নাম দ্রুত নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে আট দিন সময় লেগেছিল।

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে কী হবে?

কোনো আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা হতে পারে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী আবেদন করলেও পুনরায় ভোট গণনার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

প্রার্থীরা নির্বাচনের ফল আদালতেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল গ্রহণ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি মেনে নেব, যদি নির্বাচন সৎভাবে হয়।’

তবে কংগ্রেসের নির্বাচনি ফল পছন্দ না হলেই তা বাতিল করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নেই। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলো নিজ নিজ নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা ও ফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করে। একইভাবে আইনি চ্যালেঞ্জও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলবিদ মালি স্মিথ আলজাজিরাকে বলেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও মেনে নেয় যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিজ নিজ সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতে রয়েছে।

বিরোধের ধরন ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে পুনর্গণনা কিংবা আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *