ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে কলরেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যকার কথোপকথন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মাওলানা শোয়াইব ইসলাম ধলা হুজুরকে পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা রবি মেম্বার ওই এলাকায় ধলা হুজুরের আগমনে আপত্তি জানান।
ভাইরাল কলরেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ভোট দিতে চাইলে ভোট দেওয়া যেতে পারে, তবে ধলা হুজুরকে ওই এলাকায় আনার প্রয়োজন নেই। একপর্যায়ে তিনি আরও হুমকিমূলক ভাষায় বলেন, ধলা হুজুর কিংবা তার বাবাও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না, এলে গাড়িতে আগুন দেওয়া হবে।
কলরেকর্ড প্রকাশের পর ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এমন বক্তব্যকে নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার বলেন, মাওলানা শোয়াইব ইসলাম তার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোর করে ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চাইছিলেন। ওই পরিবার এতে অস্বস্তি প্রকাশ করে বিষয়টি তাকে জানায়। তিনি দাবি করেন, বাড়ির মালিক রাজি না থাকায় সেখানে না যাওয়ার পরামর্শই তিনি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি এ ধরনের হুমকিকে হতাশাজনক উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদে নেই এবং তিনি বিএনপির সদস্যও নন। আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান।
নগরকান্দা (সালথা সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। হুমকির ঘটনায় কেউ সাধারণ ডায়েরি করলে তা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় রাতের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরাজ শারবীন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা নির্বাচন তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
সূত্রঃ আমার দেশ
