ফ্রান্সের গণবিক্ষোভের পেছনে ইসলামকে দায়ী করলেন ট্রাম্প!

ফ্রান্সজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে দেশটির ‘নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাপক অভিবাসন’ এবং ইসলামের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শিক্ষা নিয়ে নয়, বরং দেশটির ওপর ইসলামের প্রভাব বিস্তারেরও ইঙ্গিত।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ফ্রান্সে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসন। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি স্কুলের উন্নত পরিবেশের দাবিকে কেন্দ্র করে নয়।

তবে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে অভিবাসন বা ধর্মীয় বিষয়কে সংশ্লিষ্ট করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্কুলের নানা সংকটকে কেন্দ্র করেই গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। কর্মীস্বল্পতা, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী—এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়।

পরবর্তীতে আন্দোলনটি ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি ঘটনায় সহিংসতা দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি ঘটনায় এক শিক্ষার্থী হাত হারিয়েছে এবং অন্য একজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী নির্বাচন। এর আগে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও কঠোর বহিষ্কার নীতির পক্ষে সমর্থন জোরদার করতেই ট্রাম্প ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *