বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে প্রাণ হারান তিনি।
শাহাদাতবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রশ্ন তুলে তিনি আগামী বছরের ৭ অক্টোবরের আগেই বিচারের অপেক্ষার অবসান দেখতে চেয়েছেন।
মঙ্গলবার দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে সাত বছর আগের স্মৃতি তুলে ধরে ফাইয়াজ লেখেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তার ধারণা হয়েছিল, দ্রুতই মামলার বিচার শেষ হবে। সে সময় তিনি বাবাকে বলেছিলেন, মানুষের ব্যাপক ক্ষোভের কারণে হয়তো বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে। তবে তার বাবা তখন বলেছিলেন, বিচার শেষ হতে ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে।
বাবার সেই কথার ভিত্তিতে ফাইয়াজ ভেবেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার আগেই হয়তো মামলার রায় হবে এবং তা কার্যকরও দেখতে পারবেন। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বিচারে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলার বিচার দীর্ঘায়িত হওয়াকে হয়তো অনেকেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রায় ২৬ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমানে ২১ আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
ফাইয়াজ আরও উল্লেখ করেন, একসময় আবরার হত্যার প্রতিবাদে যারা রাজপথে ছিলেন কিংবা নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ আবরার হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও যদি এই মামলার বিচার শেষ করতে এত সময় লাগে, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কীভাবে ফিরবে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে আবরার ফাহাদের ভাই আগামী বছরের ৭ অক্টোবরের মধ্যে মামলাটির বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকরের প্রত্যাশা জানান। তিনি চান, পরের বছর যেন আবরার হত্যার বিচার এখনো বাকি—এমন আক্ষেপ নিয়ে কাউকে লিখতে না হয়। বরং অন্তত একটি বিচারের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হওয়ার খবর যেন সবাই দিতে পারেন।
